রবীন্দ্রনাথের লেখনী ও দার্শনিক ভাবনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন মানেই সাহিত্যচর্চা। ছোট থেকে বড়দের জন্য তিনি রচনা করেছেন সাহিত্য। বিপুল তাঁর সাহিত্য সম্ভার। বড় থেকে ছোটদের রবীন্দ্রনাথ। শিশু-কিশোর মনেও রবীন্দ্রনাথের লেখনীর প্রভাব পড়েছে। সৃষ্টির সংকল্পে পদ্মায় বোটের জীবন কাটিয়েছেন। তিনি ১৮৮৯ সাল থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত পদ্মা নদীতে নৌকায় ভ্রমণ করেছিলেন। সাহিত্যচর্চা ও দার্শনিক ভাবনার বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এই ভ্ৰমণ।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-
“তুমি কি কেবল ছবি শুধু পটে লিখা
ওই যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড়
আকাশের নীড়;
ওই যে যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে ….
পদ্মায় ভাসমান জীবনের অনেক কথা-কাহিনী আমরা জানতে পারি। রবীন্দ্রনাথ “পদ্মাবোট” নামে একটি বিশেষ নৌকায় নৌ-ভ্ৰমণ করতেন। যা ছিল একটি চলমান বাড়ির মতো। পদ্মা নদীর বুকে ভেসে প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। তাঁর সাহিত্যে সেই জীবনের প্রভাব পড়েছিল অনেকটাই। এই সময় তিনি রচনা করেছিলেন অনেক গল্প। যেমন – “পোস্টমাস্টার”, “দেনা-পাওনা”, “দিদি” প্রভৃতি। আবার গ্রামীণ জীবনের পটভূমি নিয়ে
“গোরা”, “চোখের বালি” প্রভৃতি উপন্যাস রচনা করেছেন। গ্রামীণ মানুষ ও কৃষকদের জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তাঁদের জীবনযাত্রা, সুখ-দুঃখ-দুর্দশার ছবি ধরা পড়ে তাঁর লেখনীতে। “সোনার তরী”, “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ”, “বলাকা” প্রভৃতি কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা পাই। কবিগুরুর কবিতায় উল্লেখ পাই,
“তবু মনে রেখো,যদি দূরে যাই চলি,
সেই পুরাতন প্রেম যদি এক কালে
হয়ে আসে দূরস্মৃত কাহিনী কেবলি,
ঢাকা পড়ে নব নব জীবনের জালে।
রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনে জুড়ে-জড়িয়ে। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে তাঁর উপলব্ধি আমরা করি। তিনি লিখেছেন,
“আজি হতে শতবর্ষ-পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহল ভরে –
আজি হতে শতবর্ষ-পরে।”
বিশ্বকবির সাহিত্য সৃষ্টির অঙ্গনে চোখ রাখলে আমরা খুঁজে পাই অজস্র কবিতা। আমরা প্রাণের রসদ পাই। তাই সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁর কবিতা স্মরণ করে থাকেন।
“তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,
এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা।
যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো,
আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা॥”

